রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনমত গড়ে তোলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের মোট ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, উন্নয়ন উদ্যোগ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।
বিজ্ঞাপন
এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে এবং তার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হয় না; একসময় গড়ে ওঠা অবকাঠামো বা অর্জন আবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে তাদের দায়িত্ব শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রেও তাদের সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে জনমত তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার মূল জায়গা হওয়া উচিত সংসদ। শুধু রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলন বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র গঠনে আলোচনা, পরিকল্পনা ও চিন্তাশীল উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে বাংলাদেশের তরুণদের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
সাংস্কৃতিক বিকাশ নিয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া কোনো জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সংস্কৃতিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এসব উদ্যোগের সুফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরেক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে বালিশ কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে আলোচিত দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘটনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত ব্যয়বহুল বালিশে আদৌ স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো সম্ভব কি না, সেটিই প্রশ্ন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের আড়ালে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মোর্শেদ হাসান খান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।








