প্রিপেইড মিটারে ২১০ ডিজিটের যন্ত্রণা, ধৈর্য ছাড়া উপায় নেই

বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পর প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের এক নতুন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সাধারণত মিটার রিচার্জ করতে ২০ সংখ্যার একটি টোকেন ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে অনেক গ্রাহকের মোবাইলে ২০০-এর বেশি ডিজিটের টোকেন পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ এই কোড মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভুল হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সাময়িক একটি প্রক্রিয়া। নতুন ট্যারিফের তথ্য মিটারে হালনাগাদ করার জন্য প্রথমবারের মতো দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহকই বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে না জানায় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সাধারণত প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার পর গ্রাহকের মোবাইলে ২০ সংখ্যার একটি টোকেন আসে। সেই কোড মিটারে প্রবেশ করালেই বিদ্যুৎ ব্যালেন্স যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহক ২০০ থেকে ২১০ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ টোকেন পাচ্ছেন।
এত বড় টোকেন একবারে মিটারে ইনপুট দিতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়ছেন। দীর্ঘ সংখ্যার কারণে ভুল হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে, ফলে একাধিকবার চেষ্টা করতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিন জানান, মিটার রিচার্জ করার পর একটির পরিবর্তে কয়েকটি টোকেন তার মোবাইলে আসে। প্রতিটি টোকেন আলাদাভাবে মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, জরুরি সময়ে বিদ্যুতের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে দ্রুত রিচার্জ করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তখন দীর্ঘ টোকেন ম্যানুয়ালি প্রবেশ করানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, একবারেই সঠিকভাবে সব সংখ্যা ইনপুট দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
টঙ্গীর বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার মতে, নিয়মিত ২০ সংখ্যার টোকেন ব্যবহারে অভ্যস্ত গ্রাহকদের জন্য হঠাৎ করে ২০০-এর বেশি সংখ্যার কোড ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের সময় প্রিপেইড মিটারকে নতুন ট্যারিফ সম্পর্কে অবহিত করতে বিশেষ ধরনের কোড ব্যবহার করা হয়। এই কোডের মাধ্যমেই মিটার বুঝতে পারে যে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার সিস্টেম এনালিস্ট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘ টোকেনের মূল উদ্দেশ্য হলো মিটারে নতুন ট্যারিফের তথ্য হালনাগাদ করা। মিটারকে নতুন মূল্য কাঠামো ‘শেখানোর’ জন্যই এই অতিরিক্ত কোড পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, এটি স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নয়। কেবল প্রথমবার রিচার্জের সময় এই দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হবে। একবার সফলভাবে কোড প্রবেশ করানো হয়ে গেলে পরবর্তী রিচার্জগুলোতে আগের মতোই ২০ সংখ্যার স্বাভাবিক টোকেন পাওয়া যাবে।
গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর দ্রুত কোনো বিকল্প সমাধান নেই। ফলে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে প্রতিটি টোকেন সঠিকভাবে মিটারে প্রবেশ করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তাদের মতে, এটি একটি প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা, যা নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে অপরিহার্য। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন মনে করেন, প্রযুক্তিগত কারণে দীর্ঘ টোকেন প্রয়োজন হলেও সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তার মতে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ব্যবহারকারী অপ্রয়োজনীয় ঝামেলার মুখে পড়ছেন। তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন, যাতে মিটার আপডেটের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ কোড ইনপুট দেওয়ার প্রয়োজন না হয়।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব গ্রাহক নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবার মিটার রিচার্জ করবেন, তারাই মূলত এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। একবার টোকেনগুলো সফলভাবে ইনপুট হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আর এ ধরনের দীর্ঘ কোড ব্যবহার করতে হবে না।
তবে ততদিন পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা ও ধৈর্যই ভরসা। কারণ ভুল সংখ্যা প্রবেশ করালে পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হতে পারে, যা ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।








