পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ উদঘাটনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়ানো এবং তাদের আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের মানুষ পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে যে ধরনের সেবা ও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করে, তা নিশ্চিত করতে সদস্যরা কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করছেন, সেই বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব পালনে সফলতা অর্জনকারী সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা আরও উৎসাহিত হন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অধিকতর সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ হন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সরকার চায় পুলিশ বাহিনীকে এমনভাবে শক্তিশালী করা হোক, যাতে তারা দেশের সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসাহমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি আলোচিত তিনটি ঘটনায় বিশেষ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রামিসা হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী কয়েকজন সদস্য।
এ ছাড়া দৌলতদিয়ায় সংঘটিত একটি নৌ দুর্ঘটনায় নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে বহু যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। ওই ঘটনায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন সদস্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জে সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও চার আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী তিনজন পুলিশ সদস্যকেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সব মিলিয়ে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য দায়িত্ব পালন এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে পুরস্কার তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সম্মাননা এবং একটি করে সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি কয়েকজন সদস্যকে বিশেষ ব্যাজও প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের কৃতিত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মোদ্যম আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পেশাগত সাফল্যের যথাযথ মূল্যায়ন একটি বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।








