মেলানিয়া ট্রাম্পসহ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ জুবাইদা রহমানের

ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শিশু কল্যাণবিষয়ক এক বৈশ্বিক সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। এর আগে দুই দিনের সরকারি সফরে (২৪-২৫ মার্চ, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে গিয়ে তিনি “ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট”-এ অংশ নেন।
সম্মেলনটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৫ জনের বেশি ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবনসঙ্গীরা অংশ নেন। শিশুদের কল্যাণ, নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং তাদের সম্ভাবনার বিকাশ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিশুদের উন্নয়ন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের সুরক্ষা, পরিচর্যা এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে শিশু ও পরিবারের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।
তিনি দেশের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও আলোকপাত করেন।
বিজ্ঞাপন
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিশুদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতীকুল রহমান রুমন জানান, ২৫ মার্চ ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয়েই শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমান এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনের শেষ দিনে ডা. জুবাইদা রহমান সমাপনী অধিবেশনে অংশ নেন। ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এর সমাপনী পর্বে শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। পরে তিনি অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রুপ ফটোসেশন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলন চলাকালে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ডা. জুবাইদা রহমানের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে তিনি বলেন, শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিশ্বজুড়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে সব শিশুর জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে শিশুদের শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি, ডিজিটাল সমাধান এবং নতুন অ্যাপ্লিকেশন উপস্থাপন করা হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার সফরসঙ্গীরা প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা নেন।
এই সফরে ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. শাহ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ।








