Logo

এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর আহমেদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন, ২০২৬, ১৮:২৬
এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর আহমেদ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে ইন্টারপোলের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি। এ সময় বিমানবন্দরের এআইনির্ভর ক্যামেরা তার মুখাবয়ব স্ক্যান করে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত ডাটাবেজের সঙ্গে তা যাচাই করা হয়।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাইয়ের সময় তার বিরুদ্ধে জারি করা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ শনাক্ত হয়। এরপর দুবাই পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে পৃথক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় করে আসছিল।

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন পাঠায়। পরে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায়।

বিজ্ঞাপন

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন আবুধাবিভিত্তিক এনসিবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করে যে, বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার ও জমিজমার তথ্য উঠে আসে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদের একটি বড় অংশ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়।

দুদকের দায়ের করা মামলায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অর্থপাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক মামলাও হয়েছে।

তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ জোরদার করা হয়। এর অংশ হিসেবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়, যা বাংলাদেশের কোনো সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD