Logo

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর চাপ বাড়বে: সিপিডি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন, ২০২৬, ১৩:২২
প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর চাপ বাড়বে: সিপিডি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর কাঠামোয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নতুন কর ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের চাপ বেশি বাড়ছে, যেখানে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধির হার অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা বিষয়ক সংলাপে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এছাড়া সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি, এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন গবেষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের বোঝা বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তার মতে, এ ধরনের বৈষম্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হয় স্থবির রয়েছে, নয়তো কমেছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী কয়েকটি বড় প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফাহমিদা খাতুনের মতে, কার্যকর জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হবে এবং তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং কার্যকর মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য প্রশংসনীয় হলেও বাজেটে ব্যবহৃত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশ আশাবাদী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD