Logo

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রগতি, চূড়ান্ত হয়েছে প্রকল্পের নকশা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন, ২০২৬, ২১:৫৭
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রগতি, চূড়ান্ত হয়েছে প্রকল্পের নকশা
প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)

বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রকৌশলগত নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত এ প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা নতুন নয়। উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। এসব গবেষণার ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এলাকা এবং রাজবাড়ীর পাংশাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে চারটি দেশীয় এবং তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পাঁচটি স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালিত হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।

সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) পর্যালোচনা ও যাচাই করে। পরে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীর গতিপ্রকৃতি এবং তীরের স্থিতিশীলতা নিয়ে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণও ইতিবাচক ফল দিয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত অঞ্চলে নদীতীর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া চর গঠনের ফলে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধাও সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পদ্মার মতো বৃহৎ ও গতিশীল নদীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অভিযোজন নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেল প্রকল্পের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক মূল্যায়ন ও পরামর্শ প্রদান করবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD