গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে পেট্রোবাংলা, ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনা

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। নতুন গ্যাসকূপ খনন ও পুরোনো কূপের সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞাপন
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নতুন কূপ খনন ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, আগে নির্ধারিত ১৫০টি কূপ খনন ও ‘ওয়ার্কওভার’ (কূপ সংস্কার) কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৯টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৩৯ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও এই কর্মপরিকল্পনায় দৈনিক প্রায় ৮২ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে আরও চারটি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পেট্রোবাংলার আশা, এসব কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার মুখপাত্র তারিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি অর্থবছরের বাজেটেও জ্বালানি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জন্য ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এছাড়া উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় দেশের অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।








