রাষ্ট্র হারলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই স্বস্তি: অ্যাটর্নি জেনারেল

রাষ্ট্র কোনো মামলায় পরাজিত হলেও যদি একজন সাধারণ নাগরিক তার ন্যায্য বিচার পান, সেটিকেই সবচেয়ে বড় সাফল্য ও স্বস্তির বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার মতে, বিচারব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলায় রাষ্ট্র বা ব্যক্তি—কে জয়ী হলো, সেটি নয়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিনের কোটচাঁদপুর সফর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি সন্তুষ্টি অনুভব করেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্র কোনো মামলায় হেরে গেলেও যদি একজন নিরীহ বা সাধারণ নাগরিক তার প্রাপ্য বিচার পান, সেটিই একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি বলেন, আইনের শাসনের মূল দর্শন হলো মানুষের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো মামলার ফলাফলে রাষ্ট্র বা ব্যক্তির জয়-পরাজয় নয়, বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিজ্ঞাপন
রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, বিচারব্যবস্থা যখন একজন নাগরিককে সঠিক ও প্রাপ্য বিচার দিতে সক্ষম হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরও অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। বরং এমন রায় মানুষের মধ্যে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে এবং ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়।
তিনি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের বিশ্বাস অটুট রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা আইনের শাসন সুসংহত করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।








