Logo

ঢাকার আরও ৫০ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসছে এআই সিগন্যাল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৫৭
ঢাকার আরও ৫০ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসছে এআই সিগন্যাল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক এই সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এর পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এসব তথ্য জানান।

বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় এআই সিগন্যাল

বিজ্ঞাপন

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। এর মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে যে আটটি মোড়ে এআইভিত্তিক আধুনিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হলো— বাংলা মোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, শিক্ষা ভবন এবং শাহবাগ মোড়।

বিজ্ঞাপন

আরও ৫০ মোড়ে সম্প্রসারণ

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজধানীর আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি মোড়ে এআইভিত্তিক সিগন্যাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।

কমবে ট্রাফিক পুলিশের ওপর চাপ

আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে না।

বিজ্ঞাপন

ডিএসসিসি প্রশাসকের মতে, এতে একদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের শারীরিক কষ্টও কমবে।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর সিগন্যাল চালু করলেই রাজধানীর যানজট পুরোপুরি দূর হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ট্রাফিক আইন মানার আহ্বান

বিজ্ঞাপন

যানজট কমাতে প্রযুক্তির পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, সিগন্যাল অমান্য করা, নির্ধারিত লেন ব্যবহার না করা এবং জেব্রা ক্রসিংয়ে নিয়ম না মানার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবৈধভাবে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

মোড়ের আশপাশে ভাসমান দোকান কিংবা যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো স্থাপনা বা সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি আরও জানান, কেউ বারবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দসহ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর যানজট দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় নগর সমস্যা। সড়কে যানবাহনের চাপ, সিগন্যাল অমান্য, এলোমেলোভাবে লেন পরিবর্তন, অবৈধ পার্কিং এবং পথচারীদের অনিয়মের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দীর্ঘ সময় যানজট তৈরি হয়।

এ অবস্থায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যালের পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে চালক, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD