Logo

বিমানে মায়ের মৃত্যু, মরদেহ ওমানে রেখেই দেশে ফিরতে হলো ছেলেকে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৪৬
বিমানে মায়ের মৃত্যু, মরদেহ ওমানে রেখেই দেশে ফিরতে হলো ছেলেকে
ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেদ্দা-চট্টগ্রামগামী বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) মারা যাওয়ার পর মায়ের মরদেহ ওমানে রেখেই দেশে ফিরতে হয়েছে ছেলে এরশাদকে। স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি মরদেহটি সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে আসতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ ওমানে রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ চলছে।

ছানোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিল্লিয়ার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামী নুরুল আমিন। দুই ছেলে শাহেদ ও এরশাদ সৌদি আরবে বসবাস করেন।

ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে পড়েন ছানোয়ারা

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান ছানোয়ারা বেগম। ওমরাহ শেষে কয়েক মাস ছেলেদের সঙ্গে থাকার পরিকল্পনা ছিল তার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাতে জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইট। উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশে ছানোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিমানটি মাস্কাট বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।

মাস্কাট বিমানবন্দরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের অনুমতির অপেক্ষায় বিমানে মরদেহ

বিজ্ঞাপন

ছানোয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর মরদেহ উড়োজাহাজ থেকে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ওমানের স্থানীয় আইন অনুযায়ী রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন হয়। অনুমতি পেতে সময় লাগায় দীর্ঘ সময় মরদেহটি উড়োজাহাজের ভেতরেই ছিল।

এ অবস্থায় ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহ বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্লাইটটি আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

মায়ের মরদেহ রেখেই ফিরতে হলো ছেলেকে

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ ছিলেন। তার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ছিল এবং সৌদি আরবেও তার চিকিৎসা হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তিনি ওমরাহ সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, ওমানের আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এরশাদকে মায়ের মরদেহ সেখানে রেখেই চট্টগ্রামে ফিরতে হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ছানোয়ারা বেগমের স্বামী নুরুল আমিনও এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, বুধবার দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মরদেহটি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD