Logo

দ্রুতই কৌশলগত সংলাপ চায় বাংলাদেশ-চীন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:০৯
দ্রুতই কৌশলগত সংলাপ চায় বাংলাদেশ-চীন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীন শিগগিরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ শুরু করতে আগ্রহী। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সফরের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘চীন-বাংলাদেশ যৌথ ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তাকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল ও অগ্রগতির বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে রয়েছে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতা।

চীনের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’-এ প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগসহ প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানিকে আকৃষ্ট করার আশা রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাতে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও ভবিষ্যৎ বিনিময় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, চীন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় হুমায়ুন কবিরকে আগামী অক্টোবর মাসে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান ইয়াও ওয়েন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD