বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য প্রকৌশলী ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম রূপকার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
বিজ্ঞাপন
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বিশেষ অবদান রাখেন। এ কারণে তাকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার হিসেবে স্মরণ করা হয়।
১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। কৃষিচিন্তক প্রয়াত নূরুল ইসলাম সিদ্দিক ও বেগম হামিদা সিদ্দিকের দ্বিতীয় সন্তান তার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক সময় কাটে কুষ্টিয়ায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরের বছর কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চাকরির পথ ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর আবারও দেশ পুনর্গঠনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
১৯৭৭ সালে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসন ও প্রকৌশল ব্যবস্থাপনায়ও ছিল তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সভাপতি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ২০০৩-২০০৪ মেয়াদে গ্লোবাল ওয়াটার পার্টনারশিপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রথম চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।
২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এই প্রচারবিমুখ প্রকৌশলী ও মুক্তিযোদ্ধা। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদানের কারণে মৃত্যুর ১৮ বছর পরও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার পরিকল্পনা ও কর্মের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষের কাছে তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।








