Logo

জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে, সাদপন্থীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৪
জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে, সাদপন্থীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
ছবি: সংগৃহীত

তাবলিগ জামাতের মাওলানা জুবায়েরপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা আগামী জানুয়ারিতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মাওলানা সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা কবে ও কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাদপন্থি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গেই পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। এবার সাদপন্থিদের সঙ্গে আলোচনা করে ইজতেমা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই জুবায়েরপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এর আগে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনায় আসে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাওলানা সাদের অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে আয়োজন না করে অন্যত্র ইজতেমা করবেন—এমন বিষয় উল্লেখ ছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জুবায়েরপন্থিদের দাবি, পূর্ববর্তী আলোচনার ভিত্তিতে তারাই টঙ্গীতে শেষবারের মতো বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। অন্যদিকে সাদপন্থিদের দাবি, তারা ওই সিদ্ধান্তে কীভাবে সম্মতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার তখন দায়িত্বে ছিল না। সে সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উভয় পক্ষের আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাদপন্থিরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।

বিজ্ঞাপন

সাদপন্থিদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, জুবায়েরপন্থিদের দুই পর্বের ইজতেমা শেষে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে তারা এক পর্বের ইজতেমা আয়োজন করতে চান। তাদের আরেকটি প্রস্তাব হলো, জানুয়ারির আয়োজনের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে তাদের ইজতেমা করার সুযোগ দেওয়া।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদপন্থিদের প্রস্তাব নিয়ে জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতামতও নেওয়া হবে।

সরকারের প্রধান লক্ষ্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুবায়েরপন্থিদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সাদপন্থিরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের বাইরে অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে সাদপন্থিরা এ প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।

তিনি বলেন, তাবলিগ জামাত বিভক্ত হওয়ার আগেও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে আয়োজন করা হতো। দুই পক্ষের মধ্যে বিভাজনের কারণে ইজতেমা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

এদিকে মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এসে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তার বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি ভিসা নীতির আওতায় ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিয়ারেন্সের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD