Logo

এবার ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৩৬
এবার ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা
ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে থাকা বন্দিদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ আরও সহজ করতে ভিডিও কলের সুবিধা চালু করছে কারা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই দেশের অন্যান্য কারাগারেও সুবিধাটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ব্যবস্থায় বন্দি ও স্বজনদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সংশোধন ও পুনর্বাসনে নানা উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

কারাবন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিংসহ মানসিক বিকাশে সহায়ক নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বন্দিদের কারামুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম করে তুলতে উৎপাদনশীল কাজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। সেখানে তৈরি সাবান বন্দি ও কারা স্টাফদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানিতে জোর

বিজ্ঞাপন

বন্দিদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কারাগারের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়ন হলে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আধুনিক হচ্ছে কারাগারের উৎপাদন ব্যবস্থা

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রুটি তৈরির ব্যবস্থাতেও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসসকে জানান, চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য অল্প সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতাও কমছে।

বিশেষ দিবসে বন্দিদের খাবার পরিবেশনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কারাগারে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বন্দিদের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি এবং বেকারির কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলা ও ধর্মীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

কারা সদস্যদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ

কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অবসর-পরবর্তী কল্যাণও রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

কারা সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতেও নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে কারাগারের নিরাপত্তা, বন্দি পালানো ঠেকানো, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করা হচ্ছে।

মাদক প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’

বিজ্ঞাপন

কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে কারা সদর দপ্তরের জন্য ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে।

কারাগারগুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করতেও সবুজায়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর বলছে, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ—সব দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো কারাগারকে একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কারা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে ফিরে যাওয়ার উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD