Logo

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫৮
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে র‌্যাব ও ডিজিএফআই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একটি চক্র রোগীদের নানা ধরনের প্রলোভন ও ভুল তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অনুমোদনহীন ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভুয়া চিকিৎসক এবং সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এসব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাম প্রতিরোধে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে নানা কারণে কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। কেউ কর্মসূচির খবর না পাওয়ায়, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিতে না পারায়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশু স্কুলে থাকায় টিকা নিতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে আরও শিশু টিকাদানের উপযুক্ত হওয়ায় একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হওয়ার এটিও একটি কারণ বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া টিকাদান কর্মসূচির সময় বয়সজনিত কারণে কিছু শিশু টিকা নিতে পারেনি। পরে তারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় তাদের অনেকে টিকার বাইরে থেকে যায় বলেও জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল টিকাদান কর্মসূচির আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ওসমানী হাসপাতালের পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত নিরলসভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD