টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে ফের ক্যাম্পেইন চালানো হবে

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনতে আবারও বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন করে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রথম দফার টিকাদান কার্যক্রমে কিছু শিশু বাদ পড়ে যায়। অনেক মা পরে আর বিষয়টি খেয়াল করেননি। আবার কেউ কাজের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, টিকাদানের সময় সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এভাবেই কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে ড্রপ-আউট হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে টিকাদানে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। টিকা না পাওয়া এসব শিশুর মধ্যেই এখন কিছু ক্ষেত্রে হাম দেখা দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এ কারণেই মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরদিন, ২১ মে থেকে মপ-আপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে তিন হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে আবারও পূর্ণাঙ্গ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সিলেটের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বান্দরবানেও এক পর্যায়ে টিকা পৌঁছানোর হার কিছুটা কম ছিল। পরে দ্রুত সেখানে টিকা পাঠানো হয় এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সিলেটের হাওরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে শুক্রবার সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠক করবেন তিনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগেই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে অবৈধ ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে লেবার রুম নেই, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু এলাকায় অবৈধ চিকিৎসক, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম চালাতে তিনি নিজেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন, এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। যেসব হাসপাতালে গেছেন, প্রায় সবখানেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, রোগীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। রোগীরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অনেক হাসপাতালে পোকামাকড় ও তেলাপোকার সমস্যাও আর নেই বলে রোগীরা জানিয়েছেন।
তবে কোনো হাসপাতালে এখনো সমস্যা থেকে থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথাও কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।







