দেশে জন্মহার ২ শতাংশ বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে জন্মহার ২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরে আকস্মিক সফরে গিয়ে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চাঁদপুর সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেশের বর্তমান জন্মহার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় জন্মহার কমিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা অর্জন করেছিল। তবে বর্তমানে দেশে জন্মহার আবার ২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত কনডমের মজুত পাওয়া যায়নি এবং পরিবার পরিকল্পনায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধও পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োজনীয় বাফার স্টক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা করে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চাঁদপুরের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সন্তোষ
চাঁদপুরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানের সঙ্গে তুলনা করলে চাঁদপুরে তিনি ভালো পরিস্থিতি পেয়েছেন।
হাসপাতালের খাবারের মান, টয়লেট ও অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসক-নার্স এবং অন্যান্য কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও তিনি পরিদর্শন করেন। এসব ক্ষেত্রে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ আরও উন্নত করার কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে কাজ শুরুর দাবি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণ যাতে মানসম্মত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ
স্বাস্থ্য বিভাগের পুরোনো ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে এসব সরঞ্জামের অনেকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এসব সমস্যা সমাধান করে স্বাস্থ্য খাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে কত সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাইমচরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
এর আগে রবিবার সকালে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখতে পান বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম দীনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর ওই স্ট্যান্ড রিলিজের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সিভিল সার্জন ডা. নুর আলম দীন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জন্মহার বৃদ্ধির প্রবণতা মোকাবিলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আগামী সময়ে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।








