বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে খেলা করছে আদানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভারতের আদানি গ্রুপ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে বাংলাদেশে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে খেলা করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। একদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও পরদিন তা কমিয়ে ৫০ মেগাওয়াট দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, অতীতে দেশে প্রয়োজনীয় গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যে গ্যাসের মজুত ছিল, তা দিয়েই এতদিন চলতে হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে গ্যাস কূপ খননের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ও কয়লাভিত্তিক নয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করতে উচ্চমূল্যে বড় পরিমাণ এলপিজি সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকারি খাতে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারের একার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
মাদক ও জুয়া নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার পর্যায়েও সচেতনতা ও কাউন্সেলিং বাড়াতে হবে।
মাদকসেবীদের বিষয়ে পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথাও মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে জনবল সংকট, দুর্নীতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপ্রতুলতা রয়েছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম। বিভিন্ন হাসপাতালে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জনবল ও কারিগরি কর্মীর অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ফরিদপুর ও বরিশালের দুটি হাসপাতালে থাকা এমআরআই মেশিনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও সেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি। একইভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে কেনা অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়াতে অগ্রগতি হয়েছে। এখন বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে এবং রোগীরাও সেবার মান উন্নত হওয়ার কথা জানাচ্ছেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু অফিসে বসে থেকে প্রশাসনিক কাজ করলে হবে না। জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা জানতে হবে এবং কার্যকরভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তসহ জেলার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








