Logo

সঞ্জীবন প্রকল্পে মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২:১১
সঞ্জীবন প্রকল্পে মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা
ছবি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত করতে নেওয়া ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সদস্যদের সম্পৃক্ত করে গ্রামীণ পর্যায়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের শুরু থেকে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’ গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।

এই ধারাবাহিকতায় (১১ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপির সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞাপন

দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপির তৃণমূল পর্যায়ের বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো গেলে উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজিতে গবাদিপশু ও পোলট্রি খামার গড়ে তুলতে পারেন। উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালনের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি জাতের মুরগির খামার স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

দলগতভাবে এসব উদ্যোগ পরিচালনা করা হলে খামার ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে নিরাপদ দুধ ও মাংস উৎপাদন, মানসম্মত পশুখাদ্যের ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত খামার পরিচালনা এবং নিরাপদ বাজারজাতকরণেও সদস্যরা ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য খাতেও সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের জন্য রয়েছে বড় সম্ভাবনা। পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্যচাষ এবং মাছকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের বিস্তৃত স্থানীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

তবে এসব কার্যক্রম সফল করতে প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথ আরও সহজ হবে।

সঞ্জীবন প্রকল্পকে কার্যকর ও টেকসই করতে সহজ শর্তে অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতার পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগ—এই পাঁচটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উদ্যোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। এতে তাদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সঞ্জীবন প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৬০ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত উন্নয়নে পরোক্ষভাবে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মৎস্য, ডেইরি, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিস্তার ঘটলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনসার-ভিডিপির সংগঠিত সদস্যশক্তিকে উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে সঞ্জীবন প্রকল্প শুধু সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সঞ্জীবন প্রকল্প তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD