Logo

পদ্মা ব্যারাজ হলে সুফল পাবে ২৪ জেলার ৭ কোটি মানুষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:১৬
পদ্মা ব্যারাজ হলে সুফল পাবে ২৪ জেলার ৭ কোটি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুফল পাবেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ২৪ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পাংশার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাঁরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে ২৪ জেলার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। প্রকল্পের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও সারা বছর কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আগামী বছরের শুরুতে উদ্বোধনের আশা

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে রাজবাড়ীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।

মন্ত্রী আরও জানান, গত ১৩ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরাসরি উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি বলে জানানো হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের একটি প্রকল্পের দাবি উঠে আসছে।

বিজ্ঞাপন

২০০০ সাল পর্যন্ত প্রকল্প প্রণয়নের লক্ষ্যে চারটি সমীক্ষা করা হয়। পরে ২০০২ সালে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে সেই সমীক্ষা শেষ হয় এবং এর ভিত্তিতে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাল পুনঃখননে ২০ হাজার কিলোমিটার

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD