Logo

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: দেবপ্রিয়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:২৩
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: দেবপ্রিয়
ছবি: সংগৃহীত

সবার আগে বাংলাদেশ, শ্রমজীবী মানুষের বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ ও নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ গড়তে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় একাধিক সংকট একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু পাস করতে পারছে, অন্যদিকে দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেখানে ছাত্র খুঁজে পাচ্ছে না। আবার সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষক হতে চাচ্ছেন না।”

তাঁর মতে, এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “সবার আগে যদি বাংলাদেশ বলি, তাহলে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে।”

শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা এবং উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলা হলে শিক্ষার অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং ইনসাফের কথা বলা হলে শিক্ষা থেকে বঞ্চনা দূর করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সিপিডির নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, জেন্ডার ইনডেক্স অনুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়লেও নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের সমতা নিশ্চিত হলেও ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের জিপিএনির্ভর পড়াশোনার বাইরে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিতর্ক ও খেলাধুলার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবনদক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে অভিভাবকদের জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জিপিএ-৫ কোনো শিক্ষার্থীর মেধা বা যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক অগ্রগতি ও সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অগ্রগতির গতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্যা ও কোভিড-১৯-এর মতো বড় ধরনের সংকটে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিভাজনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও সনদের মানের পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখনফল এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ২০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও গবেষণায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইশতেহারের বাইরে নেওয়া নীতি ও পরিকল্পনা এবং বাজেটে রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর যথাযথ প্রতিফলন হয়েছে কি না—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু প্রবেশগম্যতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ঘোষিত নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD