পুলিশের মনোবলে ঘাটতি আছে, তবে ঢিলেঢালা ভাব নয়: ডা. জাহেদ

পুলিশের কিছু ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশের দায়িত্ব পালনে ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে—এমনটা মনে করেন না তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাহেদ উর রহমানের বিভিন্ন বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পুলিশের ঢিলেঢালা ভাব নেই, বরং আমরা এভাবে বলতে চাই, পুলিশকে একসময় যে রকমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, ওটাকে যদি আমরা পুলিশ মনে করি, পুলিশিং মনে করি, সেটা আমি ঠিক বলে মনে করি না।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশের এক ধরণের মিলিটারাইজেশন দেখেছি, পুলিশের হাতে যুদ্ধের অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, পুলিশ কথায় কথায় গালি দিয়েছে, পিটিয়েছে, গুলি করেছে, কথায় কথায় করেছে। পুলিশিং বরং ও রকম হওয়া চলবে না।’
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখব আমরা, পুলিশ জনগণের সাথে, দেশের জনগণের সাথে ডিল করে। আমি যদি ভুলও করি, অপরাধও করি, আমি এ দেশের জনগণ। আমি তো আর্মি না। আর্মির বন্দুক থাকে শত্রু দেশের প্রতি তাক করা। পুলিশের বন্দুকও যদি থাকে, সেটা নিজ দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে থাকে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং আমি মনে করি পুলিশকে আমরা যে চেহারায় দেখেছি, এই চেহারায় পুলিশ আর কোনোদিন না যাক।’
পুলিশের মনোবল প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একমত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবল অভাব আছে। যে ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা প্রায়ই বলি যে এটা একটু ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের জনগণও যেন পুলিশের পাশে দাঁড়ায়, তারা যেন এটা ফিরে পেতে সহজ হয়।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময় সরকারে না থেকে আগের মতো অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে কী ভূমিকা নিতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি বলছেন, আমি যদি এই সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হতাম, তাহলে নিশ্চয়ই এটার প্রতিবাদ করতাম। হাসিনার সময়গুলো প্রতিবাদ না শুধু, হাসিনার পদত্যাগ চাইতাম। এখন চাওয়া যাবে না, চাওয়া উচিত হবে না।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ‘হাসিনার সময় যখনই এ ধরণের সংকট হতো, পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা হতো, দাম এত বাড়তো, আমরা বলতাম তুমি যাও। বলতাম কারণ হচ্ছে ওই সরকারকে আমরা ওন করি নাই, এটা একটা লেজিটিমেট সরকার ছিল না। সো, আমরা পদত্যাগই চাইতাম, তুমি চলে যাও, তুমি... ওই যুক্তিই আমরা শুনতে প্রস্তুত ছিলাম না।’
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, আমি প্রায় আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকার। আমাদের অনেকেই হয়তো এই সরকার, মানে এই মার্কায় ভোট দেই নাই, কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়ায়, ইলেকশনে পার্ট ছিলাম, আমরা পার্টিসিপেট করেছি, পরাজিত হয়েছি। একইভাবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে আমরা পরাজিত যদি হই, সেই সরকারকেও আমরা ওন করব।’
তিনি বলেন, ‘তো সেই বিবেচনায় আমি আপনার সাথে একেবারেই একমত যে এটার সমালোচনা হবে, এটাকে আর একটু বেটারভাবে করা গেল কিনা, আর একটু কম করা গেল কিনা, এই সমালোচনা প্রত্যেকের পার্সপেক্টিভ থেকে আসবে।’








