Logo

বিপদে এক ফোন, দুই পরিবারকে স্বস্তি দিল ৯৯৯

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:০২
বিপদে এক ফোন, দুই পরিবারকে স্বস্তি দিল ৯৯৯
ছবি: সংগৃহীত

জরুরি মুহূর্তে একটি ফোনকলই কখনো কখনো বড় বিপদ থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এমন দুটি ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিয়ে এক গর্ভবতী নারী ও একটি ছোট শিশুকে উদ্ধার করেছে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন। ৯৯৯ সার্বক্ষণিক চালু থাকা একটি টোল-ফ্রি জরুরি সেবা, যার মাধ্যমে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জরুরি সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

চলন্ত লঞ্চ থেকে গর্ভবতী নারী উদ্ধার

শনিবার রাতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া কালীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চে এক গর্ভবতী নারী তীব্র প্রসববেদনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দেখে এক যাত্রী ৯৯৯-এ ফোন করেন।

বিজ্ঞাপন

ফোনকারী জানান, নারীটি প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ৯৯৯ থেকে বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের কোস্ট গার্ড কন্ট্রোল রুম ও নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল করুণা সরকার ফোনটি গ্রহণ করেন। পরে ডিসপ্যাচার এএসআই মাসুম বিল্লাহ উদ্ধার তৎপরতার সমন্বয় ও তদারকি করেন।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা স্টেশন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল স্পিডবোট নিয়ে চলন্ত লঞ্চটির কাছে পৌঁছে যায়। পরে অসুস্থ নারীকে উদ্ধার করে ঢাকার সদরঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে ৯৯৯-এর সহায়তায় ভোলা থেকে ঢাকাগামী একটি চলন্ত লঞ্চে শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ সাত মাস বয়সী এক শিশুকেও কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চলন্ত ট্রেনে থেকে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার

শনিবার দুপুরে আরেকটি ফোন আসে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে থাকা এক যাত্রীর কাছ থেকে। তিনি জানান, একটি ট্রেনে তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে একা দেখতে পেয়েছেন। তার ধারণা ছিল, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে নেমে গেছেন।

৯৯৯-এর মাধ্যমে জানা যায়, শিশুটির মা মেয়েকে নিয়ে সিলেটের কুলাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে কালনী এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন। ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছালে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মা লাগেজ নিয়ে নেমে গেলেও মেয়েকে সঙ্গে নিতে পারেননি। পরে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলে শিশুটি ট্রেনেই থেকে যায়।

বিজ্ঞাপন

৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে বলে। কলটেকার কনস্টেবল মিতু ফোনটি গ্রহণ করেন। পরে ডিসপ্যাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন।

ট্রেনটি নরসিংদীতে পৌঁছালে নরসিংদী রেলওয়ে থানার একটি দল শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় পৌঁছালে নিরাপদে শিশুটিকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও বিভিন্ন সংকটে সহায়তা

বিজ্ঞাপন

৯৯৯-এর মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পাওয়ার আরেকটি ঘটনা জানান কুমিল্লার চিকিৎসক ডা. সৈয়দা ফারজানা আফরিন। তিনি জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা মারা যান। মরদেহ নিয়ে কুমিল্লায় ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে গেলে তারা বিপাকে পড়েন। সেখানে উপস্থিত একজন ৯৯৯-এ ফোন করার পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জরুরি পরিস্থিতিতে কোন সংস্থা ঘটনাস্থলে সহায়তা করবে, তা কলকারীকে আগে থেকে জানার প্রয়োজন হয় না। পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর ৯৯৯ সংশ্লিষ্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, রেলওয়ে পুলিশসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনা ও বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকেও ৯৯৯-এর মাধ্যমে উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে। এমন এক ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বন্যার পানিতে আটকে থাকা ১৩ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও কয়েকজন শিশু ছিলেন।

তবে অপ্রয়োজনীয় বা ভুয়া ফোনকল জরুরি সেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এতে প্রকৃত বিপদে থাকা মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় ৯৯৯-এ করা ফোন দুটি ছিল যথাসময়ে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপের উদাহরণ। দ্রুত তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে যুক্ত করায় দুই সংকটময় পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ উদ্ধারে পরিণত হয়েছে।

তথ্য সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD