Logo

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:২২
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদারের পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করব, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই মানুষের সেবা করবে।’

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্বও পালন করছে, আমরা এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

‘আমাদের লক্ষ্য হলো দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। এর জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। কেননা এই সমস্যা মিয়ানমারে শুরু হয়েছিল এবং মিয়ানমারেই এর শেষ হতে হবে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি আমাদের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন এবং বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার উন্নত করছি। আমরা মৎস্য, গবাদি পশু এবং গ্রামীণ উদ্যোগগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তাকে অবশ্যই কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি শিল্পের পরিপূরক হতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি মানেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’

পানি নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করার পরিকল্পনা করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা একটি তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরি করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলবে।’

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো সুনির্দিষ্ট। আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) গাছ লাগাব। আমরা সৌরশক্তির সম্প্রসারণ করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং পরিবেশবান্ধব (সবুজ) কারখানাকে উৎসাহিত করছে, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফাইড কারখানার মধ্যে ৫৩টিই আমাদের। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরগুলো বর্জ্য কমাতে, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এবং আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে।’

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।

বিজ্ঞাপন

সিজিএস আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটি আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD