Logo

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৬
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র সংঘাতের কারণে সংকটের মাত্রা আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া বৈশ্বিক সহায়তা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, পর্যাপ্ত সহায়তা অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে আইআইএমএম

বৈঠকে আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাঁদের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসব সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিকোলাস কৌমুজিয়ান আরও বলেন, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘটিত সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

সীমান্তে ল্যান্ডমাইন নিয়ে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বিজিবির মহাপরিচালক মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানির কারণে মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে চলে আসছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কেও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএমের প্রতিনিধিদল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।

প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপের প্রত্যাশা

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ সুগম হতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহযোগিতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD