পূজার ছুটিতে সাভার-আশুলিয়ায় আবারও যানজটের আশঙ্কা

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে। নবীনগর-চন্দ্রা ও আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতি, যত্রতত্র পার্কিং, বাসের অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামা এবং নির্মাণকাজের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে ছুটিতে বাড়তি যানবাহনের চাপ যুক্ত হলে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে নবীনগর-চন্দ্রা ও আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তার জায়গা দখল করে নানা কার্যক্রম চালানোর কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ হলে সাভার-আশুলিয়ার হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরবেন। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরাও এসব সড়ক ব্যবহার করবেন। ফলে একই সময়ে একাধিক রুটে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যাত্রীদের দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় পোশাকশ্রমিক ময়নাল হোসেন বলেন, ‘পূজার সময় পরিবার নিয়ে বাড়ি যাব। কিন্তু এই সড়কে স্বাভাবিক সময়েই অনেক জায়গায় যানজট থাকে। ছুটির সময় গাড়ির চাপ বাড়লে কী পরিস্থিতি হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। আগে থেকেই যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টার পথ যেতে সারাদিন লেগে যেতে পারে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আরেক পোশাকশ্রমিক আলমাস মিয়া বলেন, ‘বাসে পরিবার নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যানজট হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় নারী, শিশু ও বয়স্কদের। রাস্তায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে খাবার, পানি ও টয়লেট সবকিছু নিয়েই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
শৈলী নামের এক পথচারী বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার আনন্দের সঙ্গে যদি রাস্তায় ৫-৬ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়, তাহলে পুরো আনন্দটাই নষ্ট হয়ে যায়। পূজার আগে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।’
যাত্রীদের দাবি, ছুটি শুরুর আগেই যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। বাসস্ট্যান্ডের বাইরে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সড়কের খানাখন্দ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে বাইপাইল, জিরানী, পল্লীবিদ্যুৎ, নবীনগর ও চন্দ্রা এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যাত্রীদের আশঙ্কা, এসব পয়েন্টে যান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা দ্রুত দীর্ঘ যানজটে রূপ নিতে পারে।
পথচারীদের চলাচলেও বাধা
যানজটের পাশাপাশি সড়কের পাশে অব্যবস্থাপনার কারণে স্থানীয় পথচারীদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় ফুটপাত ও হাঁটার জায়গা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে অনেককে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জান বলেন, ‘বাসগুলো যেখানে-সেখানে থামে। যাত্রী ওঠানামার সময় পেছনে গাড়ির লাইন তৈরি হয়। তখন আমাদের রাস্তা পার হতে খুব সমস্যা হয়। পূজার সময় গাড়ি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
পথচারী শারমিন বলেন, ‘রাস্তার পাশে জায়গা থাকলেও অনেক জায়গায় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে হাঁটার জায়গা থাকে না। বড় উৎসবের আগে এগুলো সরানো দরকার।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাপ বাড়লে বাড়তি ভাড়া আদায়ের আশঙ্কাও করছেন যাত্রীরা। মাশফি নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গাড়ির সংকট শুরু হলে অনেক সময় চালক-হেলপাররা ইচ্ছামতো ভাড়া চান। পরিবার নিয়ে বাড়ি যেতে বাধ্য হয়ে অনেকে সেই বাড়তি ভাড়াও দিতে বাধ্য হন।’
নির্বিঘ্ন যাত্রার আশ্বাস পুলিশের
বিজ্ঞাপন
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পূজাকে সামনে রেখে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে পথ পাড়ি দিতে পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকবে।’
সাভার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ‘পূজায় ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই মাঠে কাজ শুরু করবে পুলিশ।’
পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেওয়া হলেও, যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।








