অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা

শুষ্ক মৌসুমে অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সচেতনতামূলক বার্তায় এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনাগুলো হলো—
১. অগ্নিনিরাপত্তা আইন মেনে চলুন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
২. ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনায় উল্লেখিত সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. রান্না শেষে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন: রান্না শেষ হলে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ দেওয়া যাবে না; চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।
৪. ধূমপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন: বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যত্রতত্র জ্বলন্ত সিগারেটের অংশ ফেলে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৫. শিশুদের আগুন থেকে দূরে রাখুন: ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। এসব দাহ্য ও বিপজ্জনক উপকরণ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
৬. দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার করবেন না: দাহ্য পদার্থের গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যান্য স্থানেও এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৭. রান্নাঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৮. বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করুন: বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সংযোগ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে অতিরিক্ত লোড দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৯. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখুন: বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি এসব যন্ত্রের ব্যবহার শিখতে হবে এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
১০. অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিন: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, আগুন নেভানো, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
১১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশে সতর্ক থাকুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা, আগুন জ্বালানো কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।
১২. জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন: নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
১৩. হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।








