Logo

ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপিকে অপসারণের দাবি টিআইবির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:২০
ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপিকে অপসারণের দাবি টিআইবির
ফাইল ছবি।

সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে—পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বক্তব্য প্রত্যাহার, আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় টিআইবি। এতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের অনুমতির শর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তির শামিল।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং এটি পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবিধান ও আইনের প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইজিপি একদিকে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, অন্যদিকে সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী। কোনো সরকারের অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে আইনি বৈধতা দিতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা বাতিল করা যায় না।

বিচারবহির্ভূত হত্যার অতীত ঘটনাগুলো উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং রায়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, নির্যাতন ও হত্যার যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা এ পদ্ধতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা, তাঁর পরিবারের প্রকাশ করা অডিও এবং হত্যার অভিযোগও ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তাদের দণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপরাধমূলক ব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অতীতের এসব অভিজ্ঞতার পরও পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনছেন। অতীতের অপরাধ থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, তার জবাব তাঁকেই দিতে হবে। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যে কর্মকর্তার দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তিনিই ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলে তাঁর দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিজ্ঞপ্তিতে আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের সঙ্গে আইজিপির বক্তব্যের অসংগতির বিষয়টিও তুলে ধরে টিআইবি। সংস্থাটি জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না এবং বিদ্যমান আইন দিয়েই সন্ত্রাস দমন সম্ভব। এমন অবস্থানের পরও পুলিশপ্রধান কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনছেন, তার ব্যাখ্যা দাবি করেছে টিআইবি। একই সঙ্গে সরকারের ঘোষিত অবস্থান বাস্তবায়নে আইজিপির জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের বলপ্রয়োগ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার জন্য কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য। এই সীমিত সুযোগকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমোদন হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার অভিযোগ প্রসঙ্গেও অবস্থান জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ মুক্ত গণমাধ্যমের নজরদারি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD