Logo

মাদকের টাকা না পেলে পুলিশকে অকার্যকর বলেন সাংবাদিকেরা: আইজিপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১৮
মাদকের টাকা না পেলে পুলিশকে অকার্যকর বলেন সাংবাদিকেরা: আইজিপি
ছবি: সংগৃহীত

মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সাংবাদিকদের একাংশ অর্থ নেন বলে অভিযোগ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর দাবি, এসব অপরাধ থেকে টাকা না পেলে কেউ কেউ সংবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামি ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, সমাজে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও সাংবাদিকদের অনেকে সেসব বিষয়ে নীরব থাকেন। তাঁর অভিযোগ, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে গোপনে অর্থ নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ না পেলে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে আলী হোসেন ফকির অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছিল। সে সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের একটি অংশ মাদক ব্যবসা থেকে নিয়মিত অর্থ পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আইজিপি জানান, পুলিশ বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানান পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিলে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হয়, আবার নীরব থাকলে ‘দুর্বল’ আখ্যা দেওয়া হয়। অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও আইন প্রয়োগের সুযোগ থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করব। পুলিশকে ক্ষমতায়ন না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

বিজ্ঞাপন

গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতাও চান তিনি।

পুলিশের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশকে কাজ করতে হয়। এ জন্য বাহিনীতে শিক্ষিত ও যোগ্য জনবল প্রয়োজন।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবেও বক্তব্য দেন আইজিপি। ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ নিষিদ্ধ। প্রকৃত ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশীদারত্ব, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD