জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান আনসার বাহিনীর মহাপরিচালকের

ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও লক্ষ্যকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ এবং দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান শেষে ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের ১৯ জন নবীন কর্মকর্তা বাহিনীর সদর দপ্তরে উপস্থিত হন। এ উপলক্ষে সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন মহাপরিচালক।
পরে অনুষ্ঠিত স্বাগত ও পরিচিতিমূলক সভায় নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বৃহত্তম জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এ বাহিনী ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের নিয়ে গঠিত। প্রতিটি স্তরের সদস্যের দায়িত্ব ও ভূমিকা আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণে তাদের সম্মিলিত অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এই বিশাল সাংগঠনিক শক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, প্রত্যাশা ও উপলব্ধি যেমন আলাদা, তেমনি কর্মজীবনের লক্ষ্য ও অভিজ্ঞতাও ভিন্ন হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাশাকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আদর্শ ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক উৎকর্ষ অর্জন এবং জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সদস্যদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করে এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা, তাদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝা এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তিকে আরও গতিশীল করতে হবে।
দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় নবীন কর্মকর্তাদের বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








