Logo

৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯
৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক
ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনের মুখে বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপি এলাকা, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে মোট ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে বন্ধ রয়েছে ৬৮টি। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কর্মবিরতির কারণে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২৫টি। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানা রয়েছে ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ১ হাজার ৮১৬টি। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি কারখানা।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি চাকরিতে নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের। এসব সমস্যার সমাধান এবং ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখনো মাঠে রয়েছে।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ মোতায়েন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে সৃষ্ট অসন্তোষ যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD