গার্মেন্টস অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা ঢুকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। যাতে করে এখানে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উৎপাদনকে ব্যাহত করা যায়।’
নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, সহিংসতায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, ‘এই সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা সত্যিকারের শ্রমিক সংগঠন জড়িত নয়। আমরা বিশ্বাস করি, এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত না। তারা আলাপ-আলোচনা করবেন। তাদের প্রতিনিধির নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।’
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন যাতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উৎপাদন উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, রপ্তানি যাতে বৃদ্ধি পায়। সমস্ত বিষয় লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।’
বিজ্ঞাপন
গার্মেন্টস মালিকদের কারখানা চালু রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। রপ্তানি সংকট তৈরি করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে হয়তো কোনো না কোনো কারণে তারা শঙ্কিত হয়ে হয়তো হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে, এটা সাময়িক, এটা হয়তো আজকের দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।’








