ছাঁদ কৃষিতে ঝুঁকছে মানুষ, নগরায়নের মাঝেও সবুজের ছোঁয়া

ছবি: সংগৃহীত
ছেলেমেয়ে শখ বাড়িতে ফুল-ফলের গাছ লাগায়। বড় মেয়ে শারমিন আক্তার(১৭) বিভিন্ন জায়গা থেকে বাহারী রকমের ফুল গাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো বাসায়। জায়গার অভাবে লাগা...
বিজ্ঞাপন
ছেলেমেয়ে শখ বাড়িতে ফুল-ফলের গাছ লাগায়। বড় মেয়ে শারমিন আক্তার(১৭) বিভিন্ন জায়গা থেকে বাহারী রকমের ফুল গাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো বাসায়। জায়গার অভাবে লাগানো সম্ভব হচ্ছিলো না। তার আগ্রহ দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাসার ছাঁদেই লাগানো শুরু করেছি বাহারি রকমের ফুলের গাছ,কমলা, ড্রাগন, পেয়ারা সহ বিভিন্ন ফলের গাছ। এছাড়াও ছেলে সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন রকমের ঔষুধিগুণ সম্পন্ন গাছ। এখন আমার ছাঁদে বিভিন্ন শাক-সবজি ও রয়েছে যেগুলো পরিবারের চাহিদা পূরণ করছে। এমনি ভাবে ছাঁদে গাছ লাগানোর স্মৃতি জনবাণীকে বর্ণনা দিয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের ছাঁদ কৃষির উদ্যোগক্তা ইসমাইল (৪৬)।
নগরায়নের ছোঁয়ায় গাছপালা নিধনে বন-জঙ্গল আজ বিপন্নপ্রায়। মানুষের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে বৃক্ষরাজি। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ বিভিন্ন প্রকার চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রেখে যাচ্ছে গাছপালা। কিন্তু দিন-দিন গাছপালা নিধন করে বড় বড় দালানকোঠা তৈরির ফলে নষ্ট হচ্ছে একরের পর একর বন-জঙ্গল।
বিজ্ঞাপন
প্রথমে কারোর মাঝে ছাঁদ কৃষি নিয়ে ধারণা না থাকলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দালানের ছাঁদে লক্ষ্য করা যায় শাক-সবজি, ফলমূল সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি। কেউ-কেউ আবার ছাদে চৌবাচ্চা তৈরী করে চাষ করছেন রুই-কাতলা সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ। কম খরচে নিজের বাড়িতে সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এসব টাটকা ও তরতাজা খাবারের আশায় মূলত ছাদকৃষি মুখী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বাজারের ফরমালিন যুক্ত খাদ্য খেয়ে শরীরের ক্ষতি করার থেকে নিজের হাতে করা শাক-সবজি পরিবার নিয়ে তৃপ্তি সহকারে খেতে পারছে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও অনেকে বাসার বারান্দার খালি পড়ে থাকা জায়গায় লাল, নীল, সাদ, হলুদ সহ বাহারি রকমের ফুলগাছ লাগিয়েছে যেগুলো সহসাই দৃষ্টি কুড়োয় পথচারীদের।
দালান মালিক আব্দুর রহমান জনবাণীকে বলেন, “আমার ছাঁদের একাংশে বর্তমানে কমলা,আম,লিচু,পেয়ারা গাছ রয়েছে। অপর অংশে আছে রুইমাছ চাষের ব্যবস্থা। গতসপ্তাহে এখান থেকে আমার পরিবারের চাহিদা পূরণ করার পরেও বাজারে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি। ছাঁদের বাকি অবশিষ্ট অংশে আছে বিভিন্ন শাক-সবজির গাছ।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মঈন উদ্দিন খান জনবাণীকে জানান, “আমরা ছাঁদ কৃষির উপর বিশেষ নজরদারি রাখছি। বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করছি। প্রয়োজন অনুসারে মানুষ পরামর্শ নিতে আসে। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাহায্য করছি ছাঁদ কৃষির সম্প্রসারণ ঘটাতে। ছাঁদ কৃষিতে মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তাজা খাবার পাচ্ছে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
এসএ/








