Logo

বদনজর-কালো জাদু থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া ও আমল

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৪
বদনজর-কালো জাদু থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া ও আমল
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো আদর্শের অনুসরণ করা অপরিহার্য

বিজ্ঞাপন

মানুষের জীবনে বিভিন্ন বিপদ-আপদ আসা আসলে মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরীক্ষা। কখনো তা হতে পারে রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে। আবার কখনো তা দেখা দেয় জীবন, সম্পদ কিংবা অন্যান্য ক্ষতির মাধ্যমে। তাই পরকালে সফল হতে হলে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো আদর্শের অনুসরণ করা অপরিহার্য। 

দুনিয়ার জীবনে অনেক সময় মানুষ হিংসা-ঈর্ষার কারণে অন্যের ক্ষতি চায়। এর ফলে কেউ বদনজরের শিকার হয়, আবার কেউ কেউ সীমা লঙ্ঘন করে কালো জাদুর মতো ভয়াবহ ও পাপের কাজে লিপ্ত হয়। মনে রাখতে হবে, বদনজরের প্রভাব বাস্তব, আর কালো জাদুর আশ্রয় নেওয়া ইসলাম অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।

বিজ্ঞাপন

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বদনজর লাগা সত্য (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৯)। অন্যদিকে খোদ নবীজি (সা.) জাদু করার মতো ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। এ কথা শুনে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেগুলো কি? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, (২) জাদু, (৩) আল্লাহ তা’য়ালা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা, (৪) সুদ খাওয়া, (৫) ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করা, (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)

বিজ্ঞাপন

তবে কেউ যদি কালো জাদু বা জাদুটোনা অথবা বদনজরের শিকার হয় কিংবা এর থেকে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে এসবের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার আমলের কথাও হাদিসে এসেছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

বিজ্ঞাপন

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

বিজ্ঞাপন

অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনান আত তিরমিজি: হাদিস: ৩৩৮৮)

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কেউ যদি কোনো মানযিলে অবতরণের পর নিচের দোয়াটি পড়ে তবে পুনরায় যাত্রা না করা পর্যন্ত তাকে কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

বিজ্ঞাপন

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

বিজ্ঞাপন

বাংলা: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক।

অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের ওয়াসিলায়, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্টসমূহ থেকে (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাই। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৭)

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে কেউ যদি জাদুটোনা বা বদনজরের কারণে ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন, তবে ঝাঁড়-ফুকের (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী) কথাও হাদিসে এসেছে। খোদ নবীজিকে (সা.) জিবরিল (আ.) ঝাঁড়-ফুক করেছিলেন। সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে ঝাঁড়-ফুকের এমন একটি দোয়ার কথা এসেছে।

সহিহ মুসলিমের হাদিসটি হলো- একবার জিবরিল (আ.) রাসুল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ! (সা.) আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? জবাবে নবীজি বললেন, হ্যাঁ। পরে জিবরিল (আ.) বললেন-

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

বাংলা: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সেসব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫১২)

এমএল/ 

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD