১৭ বছরের নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি গত ১৬ মাসেও দেখা গেছে: আসিফ মাহমুদ

দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে যে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা দেশের মানুষ পেয়েছে, তারই আরেকটি প্রতিফলন গত ১৬ মাসে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, রাজপথের সংঘাত নয়, বরং নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন এনে ‘ব্যালট বিপ্লব’ ঘটাতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ফুলতলা মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক আন্দোলন ও আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের ১৭ বছরে যে ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তারই পুনরাবৃত্তি গত ১৬ মাসেও লক্ষ্য করা গেছে। দেশের মানুষ এখনো চাঁদাবাজি ও দমনমূলক রাজনীতির চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, একটি নিপীড়ন ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সহিংস পথ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আনতে হবে। সে কারণে আসন্ন নির্বাচনকে তিনি ‘বড় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এসে দাঁড়িয়েছে। অতীতে ৫ আগস্টের আন্দোলনে জনগণের চাপে তৎকালীন সরকারপ্রধানকে সরে যেতে হয়েছিল। একইভাবে এবারও জনগণের রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতীক বা মার্কা দেখে নয়, বরং যে রাজনৈতিক জোট জনগণের মুক্তি ও সংস্কার নিশ্চিত করতে পারবে, তাদের পক্ষেই ভোট দেওয়া উচিত। একটি দল সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে সুযোগ পেয়ে পিছিয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
পথসভায় তিনি ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়ে বলেন, সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই জোটকে বিজয়ী করতে হবে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং নতুন ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়েছে, যা রুখে দিতে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জরুরি।
সবশেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জনগণকে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারিত হবে।








