আবরার ফাহাদ নিজেই একটি বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন বলেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। আবরার নিজেই একটি বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি জাতীয় রাজনীতি, আন্দোলন, নদী সমস্যা ও কর্মসংস্থানসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন।
আবরার ফাহাদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আবরারের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ সমাজকে প্রতিবাদের শক্তি জুগিয়েছে এবং তাকে স্মরণ করেই নতুন প্রজন্ম সামনে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, দেশের তরুণরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করে না। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জীবন দিয়েছেন, আমি সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
বিজ্ঞাপন
কুষ্টিয়ার নদীভাঙন ও পানিসংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পদ্মা-গড়াই অববাহিকার অবস্থা এখন প্রায় মরুভূমির মতো। কখনো পানি থাকে না, আবার হঠাৎ অতিরিক্ত পানিতে তীরবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরের পর বছর নদীভাঙনে বহু মানুষের বসতভিটা ও স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদী খননের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই।
রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, মামলা, কারাবরণ, অফিস বন্ধ এবং নিবন্ধন বাতিলসহ নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর বিভিন্ন মহলে গণহারে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং যাকে ইচ্ছা তাকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলার নিষ্পত্তির জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
চাঁদাবাজির বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক সংকট থাকলেও কেউ যেন অনৈতিক পথে না যায়। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে সহযোগিতা করা হবে, তবুও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়।
বিজ্ঞাপন
যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং কাজের সুযোগ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। কুষ্টিয়ার সুগার মিল ও বস্ত্র মিল পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয় বেকারত্ব অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমন একটি দেশ গড়ার লক্ষ্য তাদের, যেখানে নারী-পুরুষ সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ থাকবে এবং তরুণরা দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশের শেষাংশে তিনি কুষ্টিয়ার চারটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং উপস্থিত জনতার কাছে ওই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জেলা নেতৃবৃন্দও তার হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন।








