জামালপুরে ৫টি আসনেই বিএনপির দাপুটে জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী ফল ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচিতদের মধ্যে দুইজন পূর্বে সংসদ সদস্য ছিলেন, আর তিনজন প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। সব আসনেই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর প্রার্থীরা।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজর ৬৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী দাড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট। তাছাড়া ৪ হাজার ১২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ তালুকদার। এই আসনে একটি পোস্টাল ভোট কেন্দ্রসহ সর্বমোট ভোট কেন্দ্র ১২৯টি। জামালপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন।
বিজ্ঞাপন
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে
বেসরকারিভাবে
নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মো. ছামিউল হক ফারুকী
বিজ্ঞাপন
দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪৩৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই আসনে একটি পোস্টাল ভোট কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৩টি। জামালপুর-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু বিষয়কসহ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি আরও তিনবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করলেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান আজাদী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ। পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে
বিজ্ঞাপন
রয়েছেন। এই আসনে ১টি পোস্টাল ভোট কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি। জামালপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৩ জন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনেও বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এই প্রথমবার সংসদসদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী ম মাহবুব জামান জুয়েল। কাস্তে
বিজ্ঞাপন
প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৪। এই আসনে ১টি পোস্টাল ভোট কেন্দ্রসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৯টি।
আয়তন ও ভোটার সংখ্যার দিক থেকে জেলার সবচেয়ে বৃহৎ নির্বাচনী এলাকা জামালপুর-৫। জামালপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১টি পোস্টাল ভোটকেন্দ্রসহ সর্বমোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬২টি। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলফলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এই প্রথম তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০১ ভোট। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ২৮২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। জামালপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ জন।








