২৪-এর অর্জন উপেক্ষা হলে ২৬-২৭ সালে অভ্যুত্থানের পুনরাবৃত্তি হতে পারে

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে উদ্বেগ জানিয়ে সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, শাসকদল প্রায়ই দাবি করে যে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দেশে আর কোনো গণ-আন্দোলন বা অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন সংরক্ষণে ব্যর্থতার ফলেই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ঘটনা ঘটে। একই ধারাবাহিকতায়, বর্তমান সময়েও যদি জনগণের অর্জনকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালের মধ্যে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের ফলাফল উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, সংবিধানের কথা বললেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নির্বাহী বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সহজেই অপসারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।
ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে বহু সংস্থা নাগরিকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগে নজরদারি করার ক্ষমতা পেয়েছিল, যা পরে সীমিত করা হয় এবং আদালতের অনুমতির শর্ত আরোপ করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে আবারও একাধিক সংস্থাকে একই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বৈরাচারী প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। যদি সরকার গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে, তাহলে বিরোধী পক্ষ থেকে তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, শুরু থেকেই তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। তবে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব পক্ষের অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বিরোধী জোটের তাৎক্ষণিকভাবে রাজপথে নামার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোটকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে আন্দোলনের পথে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকছে না। এমন পরিস্থিতি দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং চলমান রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।








