রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবির। সংগঠনটির অভিযোগ, ওই ঘটনায় তাদের নেতা-কর্মীসহ শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ এপ্রিল) পল্টন এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি পুরানা পল্টন ও সচিবালয় ঘুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তাদের বারবার রাজপথে নামতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের চক্রান্ত এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলোতে তারা ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনাকে ‘বর্বর হামলা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একজনের পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অতীতে তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সহিংস আচরণ নতুন নয় এবং অতীতেও বিভিন্ন সময় শিক্ষাঙ্গনে নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ের কিছু সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এসবের ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে।
আজিজুর রহমান আজাদ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল শুধু সহিংস কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে অন্য সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা মেডিকেল কলেজের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজনীতিতেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংগঠনের কমিটিতে এ ধরনের অন্তর্ভুক্তির নজির থাকলেও বর্তমানে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মহানগর পূর্বের সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ, পশ্চিমের সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন এবং কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।








