Logo

এমপি-মন্ত্রীর সন্তানদের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪৬
এমপি-মন্ত্রীর সন্তানদের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নন
ছবি: সংগৃহীত

এমপি-মন্ত্রীদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীদেরও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, নির্বাচনের পর বিদেশফেরত প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের দাপট বেড়েছে, যার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় এনসিপির পূর্বঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত গণসংযোগ শেষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর এ গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছে দলটি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের পর এমপি-মন্ত্রীদের বিদেশফেরত সন্তানরা এ দেশটা দখল করে নিয়েছে। শুধু এনসিপি-জামায়াত নয়, বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীরাও এই নেপোকিডদের (এমপি-মন্ত্রীদের সন্তান) হাতে নিরাপদ নন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আমাদের ছাত্রদলের সহযোদ্ধা শাকিল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে এমনই এক নেপোকিড।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি কাজের টেন্ডার ও ঠিকাদারি কার্যক্রমেও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের আধিপত্য রয়েছে। এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সব টেন্ডার, ঠিকাদারি এই নেপোকিডদের দখলে। আমরা নেপালে দেখেছি, শ্রীলঙ্কাতে দেখেছি কীভাবে এই নেপোকিডদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আমাদের আগামী লড়াইটাও সম্ভবত এই নেপোকিডদের বিরুদ্ধেই হবে এবং সেই লড়াইয়ে আমার বিশ্বাস, বিএনপির যারা সংগ্রামী নেতাকর্মী ছিলেন, যারা এখন বঞ্চিত হচ্ছেন, যারা এখন হত্যার শিকার হচ্ছেন, তারাও একটি গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপির সঙ্গে রাজপথে নামবেন।’

বিজ্ঞাপন

জনগণের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, গত সাত মাসে সারাদেশে দ্রব্যমূল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সারাদেশে গত সাত মাসে রেকর্ড পরিমাণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণই যে ক্ষমতার উৎস, সরকারের জবাবদিহি যে জনগণের প্রতি সেটি মনে করিয়ে দিতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা যেমন সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলছি, একই সঙ্গে আমরা রাজপথেও কাজ করে যাচ্ছি।’

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। সরকারের প্রতি প্রশাসকদের কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এমন একজন অনির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি ঢাকা-১৫ আসনে জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।

বিজ্ঞাপন

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই প্রশাসক সেখানে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছেন। একই সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয় করে ঢাকাজুড়ে পোস্টার ও ব্যানার লাগানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে এ ধরনের প্রচারণা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। প্রশাসকেরা ওই পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার মামলার আসামি আওয়ামী লীগের পরিচিত কয়েকটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার মামলার আসামি আওয়ামী লীগের পরিচিত কয়েকটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে। কাজ কে পাচ্ছে, কারা কাজ করছে—এসব নিয়ে এ সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের মূল চিন্তা হলো, সময়মতো ও নির্দিষ্ট জায়গায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন পৌঁছেছে কি না।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে পিছিয়ে দিতে চাইছে, যাতে বর্তমান মেয়াদে সংঘটিত অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে অনুষ্ঠিত না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বাড্ডায় আয়োজিত গণসংযোগ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত; যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক ও মোহাম্মদ আতাউল্লাহ; দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক লুতফুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD