রাড্ডার পর এখন বিএনপি কর্মীদের মবের শিকার আইইডিসিআর: সাদিক কায়েম

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পর এবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ও মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দায়ীদের বিচার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ‘রাড্ডার পর এবার বিএনপির কর্মীদের মবের শিকার হলো জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়। এরপরও তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের সভাপতি উল্টো সাফাই গেয়েছেন!’
আইইডিসিআরের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির মবের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এবং বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত করবে। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, বিএনপির হাইকমান্ড দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা যে যার মতো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বেপরোয়া আচরণ করছে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। বহিষ্কারের নাটক আর নয়, প্রতিটি মবের ঘটনায় দায়ী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচার করতে হবে, সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের সম্মান ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিজ দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন, বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচতে দিন।’
আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে কী ঘটেছিল
বিজ্ঞাপন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি তাঁর কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তি হঠাৎ কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা পরিচালককে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে মারধর করেন।
বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাদের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ড্যাব নেতার সদস্যপদ স্থগিত
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যাবের সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসান রিপকের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ড্যাবের মহাসচিব বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান ব্যক্তির সদস্যপদ স্থগিত করেছি এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি ঘিরে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধের দাবি সামনে এসেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমেই এ ঘটনার দায় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।









