Logo

ভাইরাল ভিডিও: পেছনের গল্প নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের দুই স্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪২
ভাইরাল ভিডিও: পেছনের গল্প নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের দুই স্ত্রী
‘প্রথম স্ত্রী’ মাকসুদা ইসলাম ও ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ মরিয়ম খাতুন (বাঁ থেকে) | ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তিনি নিজেও। তিনজনই দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা নারী গাজী নজরুল ইসলামের বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি ঘিরে যে প্রচারণা চলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞাপন

এক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম বলেন, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম খাতুন তার স্বামীর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও কুৎসা রটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পৃথক ভিডিও বার্তায় মরিয়ম আক্তার নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর মাধ্যমে তার স্বামীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একই ভিডিওতে মরিয়মের বাবা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিক আয়োজনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। ভিডিওটি নিয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে লিখিত বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম এবং শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে একটি ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, ওই সময় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়।

গাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তার শ্বশুরের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সংগ্রহ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তার দাবি, এরপর কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, গত ১৭ জুন তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়। সে কারণে ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে যে ধরনের অভিযোগ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে গাজী নজরুল ইসলাম, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD