Logo

আসিফ মাহমুদের সময় ক্রীড়া প্রশাসনে অনিয়ম ও প্রভাবের অভিযোগ জোরালো

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১২
আসিফ মাহমুদের সময় ক্রীড়া প্রশাসনে অনিয়ম ও প্রভাবের অভিযোগ জোরালো
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাঠের উত্তেজনা যতটা আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় এখন প্রশাসনিক অন্দরমহল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি গঠন, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরে যে আলোচনা, অভিযোগ এবং অদৃশ্য ক্ষমতার টানাপোড়েন সামনে এসেছে, তা শুধু সংগঠনগত দ্বন্দ্ব নয় বরং ক্রীড়া প্রশাসনের গভীর কাঠামোগত বাস্তবতার এক উন্মোচন। 

কমিটি গঠনে প্রভাবের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

ক্রীড়া মহলের একাংশের অভিযোগ, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক ফেডারেশনে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অদৃশ্য প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল। অনিয়ম, অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বলয়ের আধিপত্য—এমন অভিযোগ ঘুরেফিরে সামনে আসছে। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নিষ্পত্তি হয়নি, তবুও ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় বিষয়টি স্থায়ী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সজীবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্টাফ মাহফুজ আলম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। কখনো রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো আর্থিক লেনদেন, আবার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের বলয়ে অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত অনুমোদন পেত—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ‘কমিটি রাজনীতি’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি প্রবণতা বলেই মনে করছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ আছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের নামে। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনো ফেডারেশনের কমিটির পরিবর্তন হয় না। ফলে তাদের সমর্থন ছাড়া কমিটি পুনর্গঠন বাস্তবে সম্ভব ছিল না। ক্রীড়া মহলের আলোচনায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

ফেডারেশনগুলোর ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক ধরনের অস্বস্তিকর চিত্র। ক্রীড়া প্রশাসনে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা গেছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, এমন অভিযোগ রয়েছে। খেলোয়াড় ও কোচদের মতামত গুরুত্ব পায়নি। ফলে ধীরে ধীরে কিছু ফেডারেশন খেলাধুলার উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়ে পরিণত হয়েছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের পর এখন আলোচনায় এসেছে পরিবর্তনের আভাস। কিছু ফেডারেশনে পদত্যাগ, পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, কারও মতে প্রশাসনিক চাপ, কারও মতে রাজনৈতিক বাস্তবতার রূপান্তর, আবার অনেকে বলছেন, এটি দীর্ঘদিন জমে থাকা অসংগতির স্বাভাবিক পরিণতি।

একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মাঠের সাফল্য দর্শকদের উল্লাস এনে দিলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।

এখন প্রশ্ন একটাই—এই পরিবর্তনের স্রোত কি সাময়িক ঢেউ হয়ে মিলিয়ে যাবে, নাকি সত্যিই ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হবে স্বচ্ছতা ও সংস্কারের নতুন অধ্যায়?

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD