বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মাঠের বাইরেই থাকছেন নেইমার

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ নামে পরিচিত মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই সমর্থকদের জন্য এসেছে হতাশার খবর। দলের অন্যতম বড় তারকা নেইমার জুনিয়র প্রথম ম্যাচে খেলতে পারছেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করা নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল শঙ্কা। প্রাথমিকভাবে তার ক্লাব সান্তোস জানায়, পায়ে সামান্য ফোলাভাব রয়েছে। পরে পরীক্ষায় দেখা যায়, কাফের পেশিতে চিড় ধরেছে। সেই চোট কাটিয়ে ওঠার জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি জানান, অভিজ্ঞ এই ফুটবলার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এতে কার্যত নিশ্চিত হয়েছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমার দর্শক কিংবা বেঞ্চের ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ম্যাচের বাইরে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও কোচের বক্তব্যে তার অনুপস্থিতির আভাস স্পষ্ট।
আনচেলত্তি বলেন, নেইমারকে শুধু তার ফুটবল দক্ষতার জন্য নয়, দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা এবং বড় আসরের চাপ সামলাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও এখনো পূর্ণমাত্রায় অনুশীলনে ফিরতে পারেননি নেইমার। সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করলেও তিনি এখনো বুট পরে বল নিয়ে স্বাভাবিক ট্রেনিং করছেন না। বেশিরভাগ সময়ই তাকে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিমে শরীরচর্চার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন সান্তোস তারকা। এসব ছবি দেখে সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় কাটেনি। বরং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বেঞ্চেই থাকবেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭৯। জাতীয় দলের হয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য সাফল্যের অংশীদার এই তারকা ফুটবলারের জন্য এবারের বিশ্বকাপকে অনেকেই শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই তাকে মাঠের বাইরে দেখতে হওয়া সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও বর্তমান স্কোয়াডকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দলকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী সেলেসাও সমর্থকরা।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই প্রত্যাশার পরীক্ষাই শুরু হতে যাচ্ছে। আর মাঠে খেলতে না পারলেও গ্যালারি বা ডাগআউট থেকে সতীর্থদের উৎসাহ দিতে দেখা যেতে পারে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমারকে।








