Logo

ম্যাচ পাতিয়ে বিশ্বকাপ জয়, তাই বাপ-দাদার আমলের গল্প করে না আর্জেন্টিনা!

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৭
ম্যাচ পাতিয়ে বিশ্বকাপ জয়, তাই বাপ-দাদার আমলের গল্প করে না আর্জেন্টিনা!
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, গৌরব, ইতিহাস এবং কোটি সমর্থকের অনুভূতির নাম। আর যখন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল শক্তির কথা আসে, তখন সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মাঠের খেলায় যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে, তেমনি মাঠের বাইরেও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অব্যাহত থাকে।

বিজ্ঞাপন

তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে অতীতের সাফল্য, বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস এবং কিংবদন্তি ফুটবলারদের অর্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আড্ডার টেবিল পর্যন্ত দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে। এই কারণেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ শুধু একটি ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা ইতিহাস, মর্যাদা ও ফুটবলীয় ঐতিহ্যের দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে খোঁচাখুঁচির অন্যতম বিষয় হলো অতীতের ইতিহাস। একে অপরকে উদ্দেশ্য করে অনেক সমর্থকই বলে থাকেন, প্রতিপক্ষ দল নাকি শুধু ‘বাপ-দাদার ইতিহাস’ নিয়েই পড়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের পাতা উল্টালে বিতর্কিত কিছু অধ্যায়ও সামনে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়কে ঘিরে ওঠা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ। বিশেষ করে সেই আসরের কিছু ম্যাচের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে, যা আজও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

কেন আলোচনায় ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ?

১৯৭৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল হোর্হে রাফায়েল বিদেলা আর্জেন্টিনার ক্ষমতায় বসেন। সেই শাসনামলে দেশটিতে ‘ডার্টি ওয়ার’ নামে এক অন্ধকার অধ্যায় চলছিল। সমালোচকদের মতে, সামরিক সরকার ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপকে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ফুটবল বিশ্বজুড়ে আজও সেই আসরের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ‘বাপ-দাদার আমলের ইতিহাস’ নিয়ে গালভরা গল্পের সত্যতা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক করে।

বিজ্ঞাপন

পেরুর বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয় নিয়ে প্রশ্ন

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচ ছিল পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লড়াই। ফাইনালে ওঠার জন্য আর্জেন্টিনার প্রয়োজন ছিল অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জয়। কিন্তু ম্যাচে তারা পেরুকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয়।

এই ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পর্দার আড়ালের কোনো সমঝোতা ম্যাচের ফলাফলে ভূমিকা রেখেছিল। যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও ম্যাচটি নিয়ে বিতর্ক আজও থামেনি।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে পেরুর গোলরক্ষকের দুর্বল পারফরম্যান্স এবং রক্ষণভাগের অস্বাভাবিক ভঙ্গুরতা নিয়ে বহু ফুটবল বিশ্লেষক ও গবেষক প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ওই ম্যাচটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আলোচিত হয়।

অন্যান্য বিতর্ক ও নেদারল্যান্ডসের ফাইনাল

টুর্নামেন্টের সময়সূচি নিয়ে ব্রাজিল শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, আর্জেন্টিনার সুবিধার্থে সূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথ সহজ করে দেয়। পাশাপাশি, নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ফুটবলার ইয়োহান ক্রুইফ সেই বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপের ভয়ে অংশগ্রহণ করেননি, যা আর্জেন্টিনা শিবিরে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে আর্জেন্টিনা।

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা: ইতিহাসের কাঠগড়ায়

বর্তমান সময়েও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তর্ক-বিতর্কে যখন অতীতের সাফল্য নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলে, তখন ব্রাজিল সমর্থকরা সরাসরিই বলে বসেন—যে বিশ্বকাপ অর্জনের ভিত্তিই ছিল ম্যাচ পাতানো ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সেই বিশ্বকাপ নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। মাঠের ফুটবলের নৈপুণ্য ছাপিয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতি ও বিতর্কিত ঘটনাগুলো এই বিশ্বকাপকে আজ এক ‘কলঙ্কিত’ ট্রফি হিসেবেই চিহ্নিত করে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে, ক্ষমতা, রাজনীতি ও ক্রীড়ার জটিল সমীকরণের এই বিশ্বকাপ জয় নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ‘গর্বের গল্প’ ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে কেবলই এক বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে গণ্য হয়।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD