বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ফরাসি তারকা। একই সঙ্গে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও উঠে এসেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আসে সেই স্মরণীয় মুহূর্ত। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ডি-বক্সের সামনে বল পেয়ে প্রথমে কিছুটা সময় নেন এমবাপ্পে। এরপর মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা জিওপকে দক্ষতার সঙ্গে কাটিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে পড়া বলের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে ফরাসি সমর্থকরা।
এই গোলটি শুধু ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং এমবাপ্পের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও যোগ করেছে নতুন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার অষ্টম গোল। এর আগে তিনি দুটি গোলে সহায়তাও করেছিলেন। ফলে গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এবারের আসরে তার সরাসরি গোল-সম্পৃক্ততার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনি টানা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত ১০টি করে গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তিনি আটটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। এবারও একই সংখ্যক গোল-সম্পৃক্ততা অর্জন করে ধারাবাহিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যার দিক থেকেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই তার মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ২০-এ। এত কম ম্যাচে এই সংখ্যক গোল করা বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত বিরল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে ২১ গোল করতে খেলতে হয়েছে ৩১টি ম্যাচ। সেই তুলনায় এমবাপ্পে অনেক কম ম্যাচে ২০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে নিজের অসাধারণ গোল করার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইও আরও জমে উঠেছে। মরক্কোর বিপক্ষে করা গোলের সুবাদে এমবাপ্পে এখন আট গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। একই সংখ্যক গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষভাগে ব্যক্তিগত এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফরাসি অধিনায়ক পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। তার গতি, ড্রিবলিং, গোল করার দক্ষতা এবং আক্রমণভাগে নেতৃত্ব ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও বারবার দেখিয়েছেন তিনি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অল্প বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ধারাবাহিক সাফল্য তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। দুটি বিশ্বকাপে টানা অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং গোল-সম্পৃক্ততার এই রেকর্ড ভবিষ্যতে ভাঙা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন তারা।
বিশ্বকাপের শেষ পর্বে ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের সামনে ততই নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে লিওনেল মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে থাকবে।








