মেসির সামনে আবার সুইজারল্যান্ড, ফিরছে সেই রোমাঞ্চকর লড়াই

দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে ফিরছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৪ সালের সেই স্মরণীয় লড়াই। সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পাস থেকে আনহেল ডি মারিয়ার করা একমাত্র গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হারেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সুইজারল্যান্ড।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এক যুগ আগের সেই ম্যাচের পর দুই দলের চেহারায় এসেছে বড় পরিবর্তন। তখন লিওনেল মেসি ছিলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়ে এবং আর্জেন্টিনার ওপর ছিল দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা শেষ করার চাপ। অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল সুইজারল্যান্ড।
সেই ম্যাচে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সুইসদের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই মেসির পাস থেকে ডি মারিয়ার বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে আসে জয়সূচক গোল। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি সুইজারল্যান্ড।
বিজ্ঞাপন
তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের আগে ২০১৪ সালে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। এখন ৩৯ বছর বয়সী মেসি আগের মতো তরুণ না হলেও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যেও ছিলেন মেসি। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “আমরা আবারও কঠিন লড়াই করে জিতেছি। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। তবে এই দল কখনো হাল ছাড়ে না, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যায়।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডও এবার নতুন ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৭২ বছর পর শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে মুরাত ইয়াকিনের দল। তাই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও চমক দেখানোর লক্ষ্য তাদের। যদিও সুইস কোচ আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানলেও অপরাজেয় বলে মনে করছেন না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৪ সালের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের তিনজন ফুটবলার এবারও দুই দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেন। তারা হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ।
ম্যাচের আগে জাকা বলেন, “মেসির যুগে ফুটবল খেলতে পারা সৌভাগ্যের। ২০১৪ সালে আমরা তার বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং হেরেছিলাম। আমরা জানি তিনি কতটা ভয়ংকর। তবে শুধু মেসি নন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলটিও অসাধারণ।”








