Logo

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফিফা?

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৬:০১
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফিফা?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একের পর এক রেফারিং সিদ্ধান্ত ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে এনেছে আফ্রিকার দেশটি। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে তুলনামূলক সহজ জয় প্রত্যাশা করা হলেও আর্জেন্টিনাকে দুটি ম্যাচেই কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। একসময় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মিশর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

এই হারের পর মিশর ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। দলটির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং লিওনেল মেসিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল অন্যায্য আচরণের শিকার হয়েছে। তার ভাষ্য, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা এবং মেসিকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা কাজ করেছে বলেই তাদের এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মিশরের করা একটি গোল বাতিল হওয়া। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, গোলের সূচনালগ্নে মারওয়ান আতিয়ার চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হয়েছেন। সেই কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

মিশরের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, গোলটি বহাল থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত। যদিও এমন সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের খেলোয়াড়রা দুটি সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি তুলেছিলেন। হামদি ফাতি ও মোহাম্মদ সালাহ—দুজনই অভিযোগ করেন, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জে তারা ফাউলের শিকার হয়েছেন। তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা এবং ভিএআর কোনোটিকেই পেনাল্টি হিসেবে গণ্য করেননি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিলেও এগুলোকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্র বা নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রেফারিংয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয় এবং ভিএআর ব্যবস্থাও সব সময় শতভাগ বিতর্কমুক্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে পারে না।

তবে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি দল পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠের প্রধান রেফারি, দুই সহকারী, চতুর্থ কর্মকর্তা এবং রিজার্ভ কর্মকর্তা—সবাই একই দেশের হওয়ায় অনেকের মতে এটি অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

যদিও আন্তর্জাতিক মানের রেফারিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রশ্ন নেই, তারপরও এমন নিয়োগ জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

এদিকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই লিওনেল মেসিকে ঘিরেও আলোচনা হয়। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর করা একটি চ্যালেঞ্জে মেসি কোনো কার্ড না পাওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। পরে একই ধরনের ঘটনার জন্য অন্য একটি ম্যাচে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখায় অনেকে দুই ঘটনার মধ্যে তুলনা টানেন।

সমালোচকদের মতে, সেই সময় মেসি বহিষ্কৃত হলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারতেন না এবং তার করা একাধিক গোলও দেখা যেত না। তবে ফুটবল আইন ব্যাখ্যায় প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করা কঠিন বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যানও বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক বেশি ফাউল করলেও তাদের হলুদ কার্ডের সংখ্যা অন্যান্য অনেক দলের তুলনায় কম। গড়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৭টি ফাউলের পর একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে তারা। বিপরীতে ইংল্যান্ডের মতো দল প্রতি ৭ দশমিক ৭টি ফাউলের পরই একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এই তথ্য দেখে অনেকের ধারণা, রেফারিরা আর্জেন্টিনার প্রতি তুলনামূলক নমনীয় ছিলেন। তবে কেবল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব নয়, কারণ প্রতিটি ফাউলের ধরন ও তীব্রতা ভিন্ন হয়ে থাকে।

বিশ্বকাপের নকআউট সূচি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ড্র পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ফলে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি দলকে আলাদা অংশে রাখা হয়। এতে গ্রুপপর্বে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি পাওয়া দলগুলোর অন্যতম আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তারা এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি পেনাল্টি পেয়েছিল। এবারও তিনটি পেনাল্টি তাদের পক্ষে গেছে, যদিও এর মধ্যে দুটি থেকে গোল করতে পারেননি লিওনেল মেসি।

সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও প্রশ্নগুলো ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফিফা কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্বীকার করেনি। ফলে বিতর্ক চললেও এগুলো এখনো মূলত বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন দলের অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD