ফ্রান্সের ভয় পাওয়ার কথা, স্পেন নয়: লামিন ইয়ামাল

ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্পেন শিবির। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল মনে করেন, আসন্ন লড়াইয়ে স্পেনেরই শক্তি ও সামর্থ্য বেশি ভয় ধরানোর মতো। তাঁর ভাষায়, ফ্রান্সকে স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে স্প্যানিশরাই।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে নাটকীয় জয় পায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে, একদিন আগে মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ফলে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে দুই ইউরোপীয় শক্তির হাইভোল্টেজ লড়াই অনুষ্ঠিত হবে।
বেলজিয়ামকে হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইয়ামাল বলেন, প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় স্পেনই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তরুণ এই উইঙ্গার বলেন, "ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তাহলে সেটা স্পেন হওয়া উচিত। আমরা আগেও তাদের বিদায় করেছি। টানা দুইবার তাদের হারিয়েছি। আমার মতে, এই বিশ্বকাপের সেরা দুটি দলই স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠে কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে আমরা কোনো ভয় নিয়ে খেলতে নামছি না।"
বিজ্ঞাপন
গত তিন বছরে এটি হবে স্পেন ও ফ্রান্সের তৃতীয় মুখোমুখি লড়াই। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল স্পেন, যা এবারও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও সেমিফাইনাল নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও তাদের হারানোর সামর্থ্য স্পেনের রয়েছে।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, আগামী ম্যাচকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই পুরো দল এখন শুধুই সেমিফাইনালের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে তারা সচেতন, তবে নিজেদের সামর্থ্য নিয়েও সমানভাবে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারলে ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দুই দলের আগের সেমিফাইনাল লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা স্পেনের জন্য ইতিবাচক স্মৃতি। এবারও কঠিন, গতিময় এবং শারীরিক পরিশ্রমের ম্যাচ হবে। তাই খেলোয়াড়দের নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য মাঠে দেখাতে হবে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পুরো টুর্নামেন্টে এখনো তাদের সেরা ফুটবল দেখা যায়নি বলে অনেকের মত। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে তারা।
এরপর অস্ট্রিয়াকে তুলনামূলক সহজেই বিদায় করলেও পর্তুগাল এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে স্প্যানিশদের। দুটি ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো, যা দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হওয়া সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন ইয়ামাল। তাঁর মতে, স্পেনের বিপক্ষে প্রতিটি দলই রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করায় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য স্বাভাবিক খেলাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, অনেকের কাছে হয়তো মনে হতে পারে স্পেন খুব ভালো খেলছে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি প্রতিপক্ষই নিজেদের রক্ষণভাগে বেশি খেলোয়াড় রেখে খেলে। কেউই স্পেনের সঙ্গে সমানতালে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চায় না। তবুও দল ধারাবাহিকভাবে জয় পাচ্ছে, আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইয়ামাল আরও বলেন, সেমিফাইনালে উঠতে পেরে পুরো দল আনন্দিত। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু শেষ চারেই থেমে থাকা নয়। ফাইনালে পৌঁছে শিরোপার জন্য লড়াই করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে একটি গোল করেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরলেও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফিরছেন তিনি। স্পেনের আশা, ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে ইয়ামালের গতি, সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দলের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।








